ওয়েব ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ সিএএ স্থগিতাদেশ নয়, আজ এমনটাই জানালো সুপ্রিম কোর্ট।কেন্দ্রের বক্তব্য জানার জন্য চার সপ্তাহের সময় দিয়েছে আদালত।এই আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মোট ১৪৪  মামলার শুনানি হয় এদিন। সিএএ মামলা সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চে যেতে পারে বলে শুনানির প্রথমে জানিয়েছিলেনপ্রধান বিচারপতি বোবদে।

আইনজীবী ও সিএএ মামলার অন্যতম আবেদনকারী কপিল সিবাল এদিন আদালতে বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যেই সিএএ নিয়ে চূড়ান্ত রায় জানাবে আদলত। সেই তিন মাস এনপিআর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক।’কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপাল বলেন, ‘১৪৩ আবেদনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে ৬০টি আবেদনের বিষয়ে জানানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে বাড়তি সময় চাই।’প্রধান বিচারপতি জানান, কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে সিএএ-এর উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের মোদী সরকার সংসদে ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করানোর পরেই গোটা দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভকে গুরুত্ব না দিয়েই চটজলদি রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সই করিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু করা  হয়। মোদী সরকারের নয়া আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মোদি সরকারের নয়া আইনকে সংবিধান বিরোধী আখ্যা দিয়ে রাজধানী দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ১৪৪টি আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষ আদালতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টে জমা পড়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তর করে একসঙ্গে শুনানি হোক। আইইউএমএলের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষ আদালতে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে,‘সিএএতে সাম্যের অধিকার, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে, ধর্মের ভিত্তিতে অবৈধ অভিবাসীদের একটি অংশকে নাগরিকত্ব প্রদান করার ইচ্ছা পোষণ করা হয়েছে, যা সংবিধান বিরোধী।’ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নাগরিকত্ব অর্জন বা অস্বীকার করার জন্য ধর্ম কারণ হতে পারে না। এই নাগরিকত্ব আইনটি সর্বাত্মক অসাংবিধানিক।