ধামসা ও মাদলের তালে করম উৎসব মাতলো জলপাইগুড়িতে আদিবাসী সমাজ

18

ছোটন দে, জলপাইগুড়ি: ধামসা ও মাদলের তালে মাতলো সমগ্র আদিবাসী সমাজ। আদিবাসীদের শ্রেষ্ঠ উৎসব করম উৎসব সেই করম উৎসবে মাতলো জলপাইগুড়ি জেলার সমস্ত চা বাগানের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা। কথিত আছে করম গাছ এক দিন এই আদিবাসী সমাজকে বাচিয়েছিল। সেখানথেকেই করম উৎসবের সুচনা। সেকারনেই করম গাছকে পুজো করে এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। আজ জলপাইগুড়ি করলাভেলী চা বাগানে করম পুজাতে অংশ নিয়ে ধামসা মাদলের তালেতালে আদিবাসী মানুষদের সঙ্গে কোমর দোলালেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃনমুলের সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী ও যুব তৃনমুল সভাপতি সৌকত চ্যাটার্জি সহ অন্যান্য অতিথিরা।        

জলপাইগুড়ি সমস্ত চা বাগান এলাকা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসকারী এলাকাগুলিতে সোমবার রাত থেকে শুরু হয়েছে করম উৎসব। জলপাইগুড়ি করলাভেলী চাবাগানের এবারের করম পুজা ১০বছরে পরলো। পাচ জন কুমারী তিন দিন ধরে উপবাস করে এই পুজো করেন।  রাতভর চলে পুজো ধামসা মাদলের তালেতালে কোমর দোলান মোহিলা পুরুষ উভয়েই। করম পুজো উপলক্ষে আজ সমস্ত চা বাগান সরকারি ছুটি থাকবে। সোমবার থেকে জলপাইগুড়ি করলাভেলী চা বাগান এলাকায় করম পুজাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উৎসবের চেহারা নিয়েছে। চা বাগানের পাশে আদিবাসী সহায়তা কেন্দের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় করম পুজা। রাতভর এই পুজো দেখতে চা বাগান এলাকাছাড়াও দুর দুরান্ত থেকে প্রচুর সাধারম মানুষ আসেন এই করম পুজো দেখতে।

সোমবার এই পুজো উদ্ধোধন করতে আসেন জেলা তৃনমুলের জেলা সভাপতি তথা জেলার বিষিষ্ট চা শিল্পপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী, জেলা যুব তৃনমুলের সভাপতি সৌকত চ্যাটার্জি, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মহেষ রাওতিয়া সহ বাগানের মেনেজারাও উপস্থিত ছিলেন করম উৎসবে। আদিবাসী দের ধামসা মাদলের তালেতালে কমর দোলান উপস্থিত অতিথিরা। সারা রাত পুজোর পর মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ি করলা নদীতে করম ঠাকুরকে বিসর্জন করা হয়।

সারাদিন পরিবারের সঙ্গে আনন্দে দিন কাটান পরিবারের সদস্যরা। সকাল হতেই জলপাইগুড়ি রায়কত পাড়া সংলগ্ন করলা নদীর ধারে জলপাইগুড়ি শহড় সংলগ্ন চাবান গুলি তাদের বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে আসেন। সেখানেউ চোললো দেদার নাচ গান, আবির খেলা। শহরে আদিবাসীদের ধামসা মাদলের তালেতালে নাচ গান দেখতে প্রচুর মানুষ ভির জমান করালা নদীর ঘাটে। জলপাইগুড়ি করলাভেলী, ডেঙ্গুয়াঝার, রায়পুর, শিকারপুর, ভান্ডিগুড়ি সহ অন্যান চা বাগন থেকে জলপাইগুড়ি করলা নদীতে করম রাজাকে বিসর্জন দেওয়া হয়।