সাংবাদিকদের উপর আক্রমন ও প্রাননাশের হুমকির অভিযোগ তৃনমুলের নেতা বিরুদ্ধে

401

জলপাইগুড়ি, ২ নভেম্বরঃ বার বার জলপাইগুড়ির সাংবাদিকদের উপর আক্রমন, সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া, প্রাননাশের হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে তৃনমুলের নেতা কৃষ্ণদাসের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করল জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাব। কৃষ্ণদাসের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থও হতে চলেছে জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাব।  

এদিন জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি পিনাক প্রিয় ভট্টাচার্য অভিযোগ করে বলেন,  গত সোমবার পঞ্চানন বর্মনের ছেলে অসিত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি এক বৃদ্ধকে কালী পুজো প্যান্ডেলে বেধরোক পেটায়। স্থানীয় তৃনমুল নেতা কৃষ্ণ দাস, প্রধান হেমব্রম সেখানে সালিসি সভায় বসায় এমন খবর পেয়ে এরপর সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কৃষ্ণ দাস ও তার দলবল সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের ওপর আক্রমন করেন। খবর না করার জন্য হুমকি সহ মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবি ডিলিট করার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আজ সকালে পাতাকাটা ঘোষয়াড়া জুনিয়ার হাইস্কুলের প্রাঙ্গনে কালী পুজোর প্রসাদ বিতরন হচ্ছিল। বাচ্চারা বসে প্রসাদ খাচ্ছিল। সে সময় হঠাৎই  অসিত বর্মন এসে মারধোর শুরু করে। পুজো মন্ডপে গিয়ে প্রসাদের ভান্ড ফেলে চেয়ার ভেঙে দিয়ে মারধোরের অভিযোগ অসিত বর্মন বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিতাই বর্মন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমনের ঘটনায় সময় ঘটনাস্থলে ডিএসপি হেডকোয়াটার প্রদীপ সরকার, আইসি কোতয়ালি বিশ্বাশ্রয় সরকার উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ উপস্থিতিতে কিভাবে সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমন করে মোবাইল কেড়ে নেবার ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি পিনাক প্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি আরোও বলেন, এর আগেও পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সাংবাদিকের ওপর আক্রমন করেন কৃষ্ণ দাস। পুলিশ তার পরেও কোন কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। সোমবার ঘটনার পরে পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানোর পরেও কৃষ্ণ দাসের অনুগামী মনিন্দ্রনাথ বর্মন কদমতলা মোড়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের কুশপুত্তলিকা পোড়ান তারপরেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা কেড়ে নেবার পরে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষমা চায়। 

আহত নিতাই বর্মনের পুত্র বধু প্রতিমা রায় বর্মন অভিযোগ করে বলেন, হঠাৎই অসিত পুজো প্রাঙ্গনে এসে আমার স্বামী ভবেশ বর্মনকে আক্রমন করে। আমার স্বামীকে পেটায় বিষয়টি আমার শ্বশুর দেখার সাথে সাথে মারপিট থামায়। এরপর অসিত বাড়ি চলে যায়। বাড়ি থেকে দৌড়ে এসে আমার শ্বশুড়কে এমন ভাবে মারে যে শ্বশুড় পায়খানা করে দেয়। মাথা দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে। এরপর পালিয়ে যায় অসিত স্বপ্না সোনা জেলাত পর থেকেই এলাকায় অত্যাচার করছে। টাকা আর পুলিশের গরম দেখায়। অভিযুক্ত কৃষ্ণ দাস ফেসবুক লাইভে সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কোন হুমকি দেয়নি। আসলে অসিত স্বপ্নার দাদা। স্বপ্নার সামনে অলিম্পিক আছে যাতে তার মানষিকভাবে ভেঙে না পরে তাই আমি বলেছিলাম। আমি কারো মোবাইল কেড়ে নিই নি।

এদিন কোতয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানান, ওই ঘটনায় জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাবের অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।