ভিলেন আবহাওয়াতেও বিভিন্ন থিম নিয়ে মেতেছে পুজো উদ্যোক্তারা

23

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ পিতৃ পক্ষের অবসানে সূচনা হল দেবী পক্ষের। তবে মায়ের আগমনী সূর যেন কিছুটা মলিন। ভীলেন আবহাওয়া। শরতের নীল আকাশ আর পেঁজা তুলো ঢেকেছে কালো মেঘে, নদীর চরে  কমেছে কাশ ফুলের জৌলুস। আকাশে চারদিন ধরে দেখা নেই সূর্যের, অনান্য পুজো উদ্যোক্তাদের মতোই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ফুলকুশমা বাজার সার্বজনীন পূজো কমিটির সদস্যদের। কারন ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে থমকে রয়েছে মন্ডপ সজ্জার কাজ।

বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত  জঙ্গল মহলের এই পূজোর গত চার বছর ধরে শহর তলির পূজো গুলিকে টেক্কা দিয়ে নিত্যনতুন থিমের উপস্থাপনা করে জেলার সেরা পূজোর গুলির অন্যতম পূজো হিসাবে কৃতিত্ব আদায় করেনেয় এই পূজো। স্বাভাবিক এবারো থাকছে নতুন থিম ভাবনা। তাঁদের এবারের থিম “বোধি জ্ঞানে শক্তি!?” কিন্তু কেন এই থিমের ভাবনা?

পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য, রাজকুমার সিংহ বলেন, প্রত্যেক বছর আলাদা আলাদা ভাবনা থাকে, এবারের থিম “বোধি জ্ঞানে শক্তি!? ” প্রত্যেক মানুষের বিশেষ করে বাঙ্গালীদের চিন্তাভাবনা মাথায় রেখে এই থিমের ভাবনা। গত বছর প্রচুর মানুষ এখানে এসেছেন। জঙ্গল মহল ও যে পিছিয়ে নেই, আগে থিমের পুজো দেখতে মানুষকে গাড়ী ভাড়া করে শহরে যেতে হত কিন্তু জঙ্গল মহল এখন পিছিয়ে নেই, আমরা শহরকে থিমের পুজোয় টেক্কা দিচ্ছি। মূলত এই থিমের মধ্য দয়ে শান্তির বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

সৌমেন পাত্র বলেন, ” বড় বাজেটের পুজোয় শিল্পীর মূল লক্ষ্য থাকে কম বাজেটে কি ভাবে বেশি এলাকা কভার করা যায়।এবছর মূলত ফাইভার, কাপড়ের যে ব্যগতৈরী হয় সেই কাপড়ের পাতা তৈরী করে ঝোলানো হয়েছে। আর থাকছে সানপ্যাক, কাপড়,রং এর কাজ। মশারির নেট দিয়ে তৈরী হবে সমুদ্র সৈকত ও ঢেও, পদ্ম ফুল। শুধু তাই নয় শুকনো বেগুন গাছ ও ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপ সজ্জায়। আমাদের শিল্পীরা সবসময় চেস্টা করছেন কম খরচে কি ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়।কিন্তু কেন এই থিমের ভাবনা, অশুভ শক্তি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।আমরা জানি দুটি পারমানবিক শক্তি ধর দেশ পারমানবিক যুদ্ধের আবহে সবসময় যুদ্ধের হাত ছানি দিচ্ছে।

এছাড়া কাশ্মীরের সীমান্তে পাকিস্তান বারবার যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করছে। দেশে দেশে রোহিংগাদের প্রবেশের ফ লে জন অভ্যুত্থান ঘটছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের নামে রাজনৈতিক আস্ফালন দেখাচ্ছেন।এই সময় ভারত বর্ষের চিত্র অত্যন্ত সংকট জনক বলে মনে হচ্ছে। এখানেই জিজ্ঞাসা তাহলে কি সব শেষ, গেল গেল রব উঠেগেল। আমারা দেখাতে চেয়েছি কিছুই শেষ হয়নি।

ভারত বর্ষ এবং পশ্চিম বঙ্গ যেখানে ছিল সেখানেই আছে।” প্যান্ডেলের রাক্ষস ও গৌতম বুদ্ধ, বোধি বৃক্ষ এবং বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমরা তাই দেখাতে চেয়েছি।” পুজোর দিন গুলিতে বিভিন্ন অনুসঠান থাকছে বলে জানালেন পূজো উদ্যোক্তারা।