যাকজমক ভাবেই হচ্ছে জমিদার বাড়ির পূজো

15

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ জমিদার বাড়ির পূজো।  রায় বাড়ির দুর্গা পূজো আগে বেশ যাকজমক ভাবেই হতো। পূজোর চার দিন হাজার হাজার মানুষের পাত পেরে খাওয়ান, পূজো উপলক্ষে বসতো মেলা, হতো জলসা সমস্ত কিছুই ছিল কিন্তু আজ সেই জমিদারিও নেই নেই পূজোর জৌলুসও, তবে আজও নিষ্ঠা ভরে হয়ে আসছে  এই পূজো।

  বছরটা সঠিক জানা না থাকলেও দেড়শো বছর আগে জমিদার করফুল চন্দ্র রায় শুরু করেছিলেন প্রথম এই দূর্গা পূজো। ওনার স্ত্রী বিদ্যেশ্বরী রায়ের কঠিন অসুখ হয়। কিছুতেই অসুখ সারছিলনা। তখন জমিদার করফুল চন্দ্র রায় মানত করেছিলেন যে তিনি বাড়িতে দূর্গা পূজো দেবেন। সেই থেকেই হয়ে আসছে এই পূজো।

হবিবপুর থানার আদিবাসী অধ্যুষিত বাহাদুর পুর গ্রাম। বহু পুরানো জমিদারের দালান বাড়িটি এখনো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল খসে খসে পরছে পলেস্তারা। তবে জমিদারের আভিজাত্য এখনো বহন করে আছে এই দালান বাড়িটি। পূজো আসলেই বহু পুরানো স্মৃতি মনে পরে যায় পরিবার তথা গ্রামবাসীদের। পূজোর চারদিন ধুমধামের সঙ্গে জমিদার বাড়ির পূজো হতো। চার পাঁচটি গ্রামের মানুষ খাওয়া দাওয়া করতো পূজো উপলক্ষে। বাড়ির সামনে বসতো বড় মেলা, চার দিন ধরেই চলতো জলসা, আদিবাসী নৃত্য ও মঙ্গল চন্ডি গান।

কিন্তু আজ সেই জমিদারিও নেই নেই পূজোর আরম্বরও। কালের সাথে সাথে পূজোর জাকজমক এখন মৃতপ্রায়। তবে নিষ্ঠার সাথে পূজো হয়ে আসছে রায় বাড়িতে। চারদিন না পারলেও অষ্টমীতে গ্রামের মানুষদের পাত পেরে খাওয়ানো হয়। তবে পুরানো প্রথা দশমীতে মাকে বিসর্জন করতে যাওয়ার সময় শুন্যে দুই রাউন্ড গুলি ফাটান হয় তা এখনো চলে আসছে। জমিদার বাড়ির এই পূজোর সাথে জড়িত পুরহিত ও মৃত্শিল্পীও বংশ পরম্পরায় কাজ করে আসছেন।