রঙিন করে রঙিন হব এই শুধু মন চায়

601

এই অস্থির, অসংলগ্ন, অসময়েও বঙ্গ প্রকৃতিতে এক নতুন সাজ। ফাগুনের এই সময়ে রঙে, রূপে, রসে, বর্ণে যেন এক অন্য ছটা। শুধু হতাশায় ডুব মেরে থাকায় নয়, অন্ধকারের বৃন্ত থেকে খসাতে হবে বিকৃতের বিষফল। কারণ এই বসন্তেই গাঁথা হয় জয়ের মালা। ‘বসন্ত এসে গেছে’। শুরু হল এনিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন। এই পর্বের চতুর্থ দিনে কলম ধরেছেন  বাচিক শিল্পী পিয়াসী চক্রবর্তী


পিয়াসী চক্রবর্তী

“আজ বসন্ত, আজকে দেখো পলাশ পলাশ প্রাণ..

তোমার চোখের পাতার উপর আমার তুলির টান ।”

প্রকৃতিতে যেমন বসন্তকাল রূপ-রস-গন্ধ-বর্ন- সৌন্দর্য উজাড় করে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে, তেমনি নবযৌবনের ছোঁয়ায় উজ্জীবিত হয় প্রকৃতি থেকে মানব জীবন।তীব্র শীতের পাতাঝরা প্রকৃতি, কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন ফুলে- ফলে, পাতায় রঙিন হয়ে ওঠে চারিধার, তখন আমাদের জীবন যেন রঙিন হতে চায় রঙের ছোঁয়ায়। তাই তো অজান্তেই মন গেয়ে ওঠে…” রাঙিয়ে দিয়ে যাও।”

বস্তুত,আমরা সকলেই নিজেদের রাঙাতে চাই ভালোবাসার রঙে। আর তাই মেতে উঠি বসন্তের শ্রেষ্ঠ উৎসব দোল এর আনন্দে।যা কিছু জীর্ণ, যা কিছু মলিন ,আবির গুলালের ছোঁয়ায় বিলীন হয়ে জীবনকে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত করে।

দোল মানেই আবিরে আবিরে রাঙা চারিধার, গ্লানি, তিক্ততা ভুলে আপন করে নেওয়া একে অপরকে। কখনো বা রবি ঠাকুরের গানে, আবিরের প্রথম স্পর্শে ভালোবাসার পূর্ণতা প্রাপ্তি। এভাবেই বিভিন্নভাবে নাচ-গান রঙের খেলায় মেতে বঙ্গ জীবন উদযাপন করে দোলের আনন্দ। বর্ণমালার সব রঙ যেন  আমাদের জীবনের এক-একটা অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ধরা দেয়।

একটি রঙের অভাবেও যেমন বর্ণমালা অসম্পূর্ণ, ঠিক তেমনি আমাদের জীবনেও বর্ণমালার সব রং এর  গুরুত্ব অপরিসীম। যেকোনো  একটি রঙের অভাবও সেই পূর্ণতা প্রাপ্তির প্রতিবন্ধক। তাই প্রার্থনা রঙ নিয়ে রংবাজি নয়, সব রঙ  মিলেমিশে একাকার হয়ে ভালোবাসার এক নতুন রঙে রাঙিয়ে যাক আমাদের জীবন, সার্থক হোক দোল উৎসব। “আজ বসন্ত, আজকে কি আর হিসেবে মানা যায় ? রঙিন করে রঙিন হব এই শুধু মন চায়।”