এবার আকাশ ছোঁয়া লঙ্কার দাম, মাথায় হাত সাধারন মানুষদের

75

শ্যাম বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনাঃ এবার লংকার দাম বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পরেছে সাধারন মানুষদের। বসিরহাট মহাকুমার ১ নম্বর ব্লকের মেরুদন্ডী, কামারডাঙ্গা, মদিনাতলা, তেঘরিয়া, গন্ধর্বপুর, পিয়াড়া সহ এখানকার লংকা যেত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় । কিন্তু এখন দৃশ্যটা পুরোই আলাদা।

কৃষক গঙ্গা পদ সর্দার ও প্রভাতী সর্দার বলেন, একদিকে লকডাউন চলছে অন্যদিকে আম্ফানের যাঁতাকলে লংকা চাষিরা এখন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আম্ফানের জেরে লংকা গাছের ফলন বিপর্যয়ের মুখে পরেছে। যার ফলে লংকা বাজারে চাহিদার জোগান দিতে পারছে না চাষিরা।

অন্যদিকে কৃষকরা ঋণ নিয়ে লঙ্কা চাষ করলে তা শোধ করতে পারছে না। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লংকার গাছ তরতাজা। কিন্তু গাছে নেই লংকা। এ এক বিরল দৃশ্য দেখা গেল লংকা তলায় গিয়ে। একদিকে গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গাছের গোড়ায় জল জমে গিয়ে দীর্ঘদিন পরে পচন রোগ এসে গেছে লংকা গাছের গোড়ায়। লংকা ঠিকমতো হচ্ছে না। যে দিকে তাকাও বিঘার পর বিঘা মাঠে জ্যান্ত গাছ দাঁড়িয়ে আছে। বাজারে লংকার দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। কিছু কিছু গাছে লংকা ফোলছে। সেই লংকা চাষিদের কাছ থেকে ফড়েরা কিনছে, বড়ো জোর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর সেই লংকা বাজারে বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ দামে। যার কারণে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের। যে চাষীরা কষ্ট করে ফসল ফলাচ্ছে মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিজের জীবন বিপন্ন করে পরের জমি লিজ নিয়ে লংকা চাষ করেছিল সে কি পেল?

একদিকে কালো বাজারি হচ্ছে লংকা, অন্যদিকে ফোড়ে ও দালালরা লংকা মজুদ করে বেশি টাকা মুনাফার জন্য চাষীদের পেটে লাথি মেরে নিজের পেট ভরাতে ব্যস্ত।

বাজারের এক সময় যারা প্রতিদিন ১০০ গ্রাম করে লঙ্কা কিনতেন তারা আজ কেউ ২৫ গ্রাম থেকে ৫০ গ্রাম নিচ্ছে। সেই কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের হেঁসেলে রীতিমত লংকা কান্ড বেঁধে যাচ্ছে । লঙ্কা না পেয়ে মাঝে মাঝে পরিবারের মধ্যে ঝামেলা প্রকাশ্যে বেরিয়ে পরছে।

কৃষকরা বলছেন, যদি দ্রুত বৃষ্টি না হয় তাহলে চারাগাছ বড় হবে না, তার মানে জলের অভাবে লংকার যোগান কমবে, দ্রুত যদি চাষিরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলন ফলাতে না পারে তাহলে আগামী দিন গুলোতে লংকার বাজারে আগুন ধরে যাবে। আর সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে গরিব খেটে খাওয়া মানুষ জন।

অন্যদিকে লংকার দাম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দ্রুত চাষিরা চেষ্টা করছে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার। ব্যবসায়ী সাকবর আলী গাজী, পর্যাপ্ত পরিমাণে লংকা যোগান দেওয়ার জন্য আলুর পাশাপাশি বড় বড় বাজার গুলিতে যাতে লংকার দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সেদিকটাও ভেবে দেখছে, লঙ্কার দাম বেড়েছে সেটা মেনে নিলেন ব্যবসায়ীরা।