দুষ্কৃতীদের দমন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ৩ পুলিশ কর্মী, মৃত ১

165

শ্যাম বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগণাঃ দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ পুলিশ, অভিযোগ স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টর–সহ ৩ জন পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান এক পুলিশ কর্মী। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ২ গ্রামবাসী। অভিযোগ,পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের ২টি মোটরবাইক। ঘটনার জন্য বিজেপি–কে দায়ী করেছে তৃণমূল। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে টহলদারিতে বেরিয়ে খুলনা গ্রামের আতাপুর ফেরিঘাটের কাছে বেশ কয়েকজনকে রাস্তার উপর বসে মদ খেতে দেখে পুলিশ। সেখানেও জুয়ারও ঠেক বসেছিল। তাদের সেখান থেকে উঠে যেতে বললে শুরু হয় বাদানুবাদ। তারপরেই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বোমা ছোড়া শুরু করে দুষ্কৃতীরা। গুলি লাগে সাব ইনস্পেক্টর অরিন্দম হালদার, সিভিক ভলান্টিয়ার বাবুসোনা সিংহ ও ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতির গায়ে। তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও এক গ্রামবাসীও গুলিতে জখম হন। ওই ব্যক্তি সরকারিভাবে না হলেও ভিলেজ পুলিশেরই কাজ করেন বলে জানা গেছে। গুলি বোমার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষ। তাঁরাই আহত পুলিশকর্মীদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দুজনকে পাঠানো হয় কলকাতায়।

এই ঘটনায় বিজেপি–র বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘পুলিশকে যারা মেরেছে, তাদের কোনও দল দেখা হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে তাদের। যে দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা আগে সিপিএম করত। গত লোকসভা নির্বাচনে তারা বিজেপি–র হয়ে কাজ করেছিল। এই ঘটনায় দলমত নির্বিশেষে তদন্ত হবে।’ যদিও এই অভিযোগ বিজেপি অস্বীকার করেছে। 

অন্যদিকে বিজেপি-র মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, বাংলায় এখন জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। আইনশৃঙ্খলা বলে কোনও বিষয় নেই। যে রাজ্যে পুলিশের জীবনই বিপন্ন সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কী তা বোধগম্য। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায় তাঁকেই নিতে হবে।”