যারা দিল্লিতে অশান্তি ছড়িয়েছে তাদের টুকরে-টুকরে গ্যাং-কে শাস্তি দেওয়ার সময় এসেছেঃ অমিত

222

ওয়েব ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বরঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও নাগরিকপুঞ্জি আইনের প্রতিবাদে দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় কংগ্রেসকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলে এমন কথা বললেন মোদী সেনাপতি। আসন্ন দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ।

কংগ্রেসকে নিশানা করে দিল্লি উন্নয়ন পর্ষদের এক অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার অমিত শাহ বলেন,‘‘কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং, যারা দিল্লিতে অশান্তি ছড়িয়েছে,তাদের শাস্তি দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। দিল্লিবাসীর শাস্তি দেওয়া উচিত’’।

এদিন তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘আমি বলতে চাই আপনারা কংগ্রেসের নেতৃত্বে চলা টুকরে-টুকরে গ্যাংকে শাস্তি দিন। ওরাই দিল্লির হিংসার জন্য দোষী। দিল্লির মানুষের উচিত, ওদের শাস্তি দেওয়া।’ নাগরিকত্ব আইন নিয়ে জনমানসে কংগ্রেস বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও তোপ দেগেছেন শাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘‘সংসদে পাস হয়েছে সিএএ। কোনও বিরোধী দল কিছু বলেনি যেই না সংসদ থেকে বেরোল, সকলে মানুষকে ভুল বোঝাতে শুরু করল’’।  

উল্লেগ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিল পাশ হওয়ার পর ঠেক অসম, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। এই আইনের প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিক্ষোভে বাদ পড়েনি রাজধানী দিল্লিও। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি কেন্দ্র-বিরোধিতায় সরব হন একাধিক সংগঠনের সদস্যরাও। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পড়ুয়াদের জমায়েত হতেই ঢোকে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে ঢোকে পুলিশ। আন্দোলন রুখতে পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে জখম হন বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে রীতিমতো খুঁজে বের করে পড়ুয়াদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা দেশ। এরপর ২০ ডিসেম্বর দিল্লির দরিয়াগঞ্জেও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পথে নেমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে থাকেন মানুষ। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলে অবরোধ। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটে। পুলিশকে লক্ষ্য করে চলে পাথরবৃষ্টি। একইভাবে দিল্লির জামা মসজিদ চত্বরেও পরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ।

অন্যদিকে, দিল্লির আপ সরকারকে নিশানা করে এদিন শাহ বলেন, ‘‘এবার দিল্লিতে পদ্মফুল ফুটবে। দিল্লিবাসী, আপনারা ৭ জন বিজেপি সাংসদকে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে এবার বিজেপি বিধায়কদের সুযোগ দেওয়ার পালা আপনাদের’’।