দামি গাড়ি, সোনার গয়নায় মানুষের কাছে নয়,তৃনমূল কাউন্সিলরদের নতুন টোটকা প্রশান্ত কিশোরের

367

কলকাতা, ৪ জানুয়ারি: সামনেই পুরভোট, কলকাতা পুরসভার মেয়াদও শেষের দিকে। এবার কলকাতায় দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূলের স্ট্যাটিজিস্ট প্রশান্ত কিশোর।

শুক্রবার তৃণমূল নেত্রী যখন উত্তরবঙ্গ সফরে ব্যস্ত, তৃণমূল কাউন্সিলরদের প্রশান্ত কিশোরই বাতলে দিলেন দাবাই। ক্যামাক স্ট্রিটের ইন্ডাস্ট্রি হাউসে সকাল থেকেই চলল বৈঠক। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শীর্ষনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সি।

সদ্য সমপ্ত তিন বিধানসভার উপনির্বাচনে ১০০ শতাংশ সাফল্য পাওয়ার পরই প্শান্ত কিশোরের ওপর ভরসা আরও বেড়েছে দলনেত্রীর। তাই এবার ভোট ময়দানে গুটি সাজাতে সরাসরি দলের নীচুতলার প্রতিনিধিদের সঙ্গেই টিম পিকে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে হবে পুরভোট, ফলে সেই লক্ষ্যে এবার ঝাঁপাতে চাইছে শাসকদল।

জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে তিনি দলীয় কাউন্সিলরদের আরও চারটি করে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচী করতে বলেছেন, পাশাপাশি বিধায়কদের ১০টি কর্মসূচী পালন করতে হবে। তিনি আরও পরিস্কার করে দিয়েছেন, আসন্ন পুর নির্বাচনে কোনও জোরজুলুম করা চলবে না, ভোট করাতে হবে শান্তিপূর্ণ। কোনও রং না দেখে সকলের সঙ্গে জনসংযোগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দামি গাড়ি, সোনা-গহনা পড়ে মানুষের কাছে যাবেন না, কড়া বার্তা শাসকদলের। উল্লেখ্য, বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি দাবি করে আসছে ক্ষমতা দখলের স্বার্থে শাসকদল ভোট করতেই দেয়না। এতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে জনমানসে, তাই ভোটে জোরজুলুমের ঘটনা যাতে না ঘটে সেটা নিয়ে কড়া ভাষায় সাবধান করে দিয়েছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। এব্যাপারে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাফ বার্তা, লবি করে টিকিট পাওয়া যাবেনা। তাঁদের বক্তব্য, যদি আপনারা ভেবে থাকেন, ব্যক্তি স্বার্থে দলকে ব্যবহার করবেন সেটা ভুল হবে, আপনাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন না ডোবে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

পঞ্চায়েতের মত যেন কোনও গোলমাল না হয় এই বার্তা দিয়ে টিম পিকে জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন পুর ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে হবে। তৃণমূল নেত্রীই যে দলের শেষ কথা, সেখানে তাঁর অনুপস্থিতিতে পিকে-কে নিয়ে বৈঠকে অন্য বার্তা খুঁজছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের পরামর্শদাতা হিসেবে পিকের আগমন অভিষেকের হাত ধরেই। স্বভাবতই মমতাকে সামনে রেখে পিকের নানা কর্মসূচি কার্যত সংগঠনকে শক্ত করেছে। সেই অর্থে, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ভবিষ্যৎ হয়তো সত্যিই প্রশান্ত কিশোরের হাতে।