‘‌জয় শ্রীরাম’স্লোগানকে কেন্দ্র করে তৃণমূল–বিজেপি সংঘর্ষ !‌ নানুরে রাতভর চলল বোমাবাজি

66

ওয়েব ডেস্ক, ৭ এপ্রিলঃ একুশের ভোট গ্রহণের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই সরগরম হচ্ছে বাংলার রাজনীতি। বীরভূমের নানুরে ভোটগ্রহণের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক হিংসা। যুযুধান দু’‌পক্ষের সংঘর্ষে রাতভর নানুরের সিঙ্গি গ্রামে চলল বোমাবাজি। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নানুরের সিঙ্গি গ্রামে পঞ্চায়েত অফিসের কাছে বিজেপি কর্মীরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছিলেন। আর তা থেকেই লেগে গেল সংঘর্ষ।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের কথায়, একদল যুবক যখন ‘‌জয় শ্রীরাম’‌ স্লোগান দিচ্ছিলেন সেইসময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তৃণমূল কর্মীর ছেলে। তখনই বিজেপি কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে জোর করতে থাকতে ‘‌জয় শ্রীরাম’‌ বলার জন্য। ‘‌জয় শ্রী রাম’‌ বলতে অস্বীকার করায়, তখনই তাঁর ওপর ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। ছুরি চালানোর ঘটনায় তাঁর মাথায় অনেকটা কেটে যায়।

আহত তৃণমূল কর্মীর ছেলে শেখ বাপন বলেন, আমার বাবা এলাকায় তৃণমূল করে। আর আমরাও সবাই তৃণমূলকে সমর্থন করি তাই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এইভাবে হামলা চালাল। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দলের কেউ এই ঘটনায় জড়িত নয়। মিথ্যা অভিযোগ করছে তৃণমূল। ভোটের মুখে নানুরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই সারারাত ধরে বোমাবাজি করছে এলাকায়। বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। নানুরে তৃণমূলের হার নিশ্চিত। তাই বিজেপিকে মারছে।

যদিও এই বোমাবাজির ঘটনায় তৃণমূলের কেউ কোনওভাবে জড়িত নয় বলেই দাবি বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। বিজেপির গুন্ডারাই হামলা চালায় আমাদের কর্মীদের উপর। হেরে যাবে বলেই এখন মিথ্যাচার করছে বিজেপি বলে দাবি তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের। এই ঘটনায় নানুরের সিঙ্গি গ্রামে রয়েছে যথেষ্ট উত্তেজনা। ঘটনাস্থলে রয়েছে বোলপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পঞ্চায়েত অফিসের সামনে পড়ে থাকতে দেখে বেশ কয়েকটি তাজা বোমা। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোট যত এগিয়ে আসবে রাজনৈতিক হিংসা আরও বেড়ে যাবে নানুরের বিভিন্ন গ্রামে। প্রায়শই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীরা। কড়া হাতে নানুরের বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচন পরিচালনা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের কাছে।