রাজধানী দিল্লিতেও এবার পালিত হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘শহিদ দিবস’ তবে ভার্চুয়ালি ভাসন দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো

40

ওয়েব ডেস্ক, ১৪ জুলাইঃ এবার মিশন ২০২৪। লোকসভা নির্বাচনকেই পাখির চোখ করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই রাজধানী দিল্লিতেও এবার পালিত হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘শহিদ দিবস’। ২১ জুলাই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ নয়াদিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ারই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর সেই ভাষণেই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের চলার পথ ঠিক করে দেবেন তিনি। ভার্চুয়াল এই সভায় মমতার বক্তৃতা এলইডি স্ক্রিন মারফৎ সম্প্রচারিত হবে নয়াদিল্লিতেও। এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় দফতরে সংসদীয় দলের উদ্যোগে মমতার বক্তৃতা সম্প্রচারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এবারও শহিদ দিবসে ভার্চূয়াল সমাবেশ হবে। আমাদের নয়াদিল্লির অফিসে এলইডি স্ক্রিন লাগিয়ে সেখানেই নেত্রীর বক্তৃতা দেখানো এবং শোনানো হবে।’

২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের জেরে প্রথমবার ২১ জুলাই ভার্চুয়াল মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী নিজের বক্তব্য রেখেছিলেন কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে। এবার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এই বছরও ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান হবে ভার্চুয়ালি। সুখেন্দুশেখর রায়ের বক্তব্য, ‘আমাদের দলের রাজ্যসভা–লোকসভার সাংসদেরা সেখানে অবশ্যই হাজির থাকবেন। দিল্লিতে আমাদের দলের সমর্থকরাও রয়েছেন। তাঁরাও ওইদিন আমাদের সঙ্গে বসে নেত্রীর বক্তৃতা শুনবেন।’

এবার ত্রিপুরা এবং অসমেও শহিদ দিবস পালিত হবে বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর মিলেছে। ভার্চুয়ালিই প্রতিটি ব্লকে ২১ জুলাই পালিত হবে। তবে একুশের নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর দিল্লিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর ভার্চুয়াল উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে কখনও দিল্লিতে মমতার বক্তৃতা দেখানো বা শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। এবার তা করা হচ্ছে।

এনেকেই মনে করছেন, তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মসনদ দখল করে জাতীয় রাজনীতিকে ‘পাখির চোখ’ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপিকে দেশের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। তার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তারই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।