“দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে জেলা পরিষদের ১১ জন সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল”: মৌসম বেনজির নূর

221

বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদাঃ “সাংবাদিক বৈঠক করে দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে জেলা পরিষদের ১১ জন তৃণমূল সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল।” সোমবার সন্ধ্যায় জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর এই কথা জানান। এদিন জেলা তৃনমূল কংগ্রেস কার্যালয় জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মৌসুম নূর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী জেলা পরিষদের ২১ জন সদস্য।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে মালদা জেলা পরিষদ গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস। ৩৭ টি আসনের মধ্যে ২৯ আসন দখল করে তৃণমূল ৬ জন বিজেপি ও ২ কংগ্রেস। সংখ্যাগরিষ্ঠ দিক থেকে এগিয়ে থেকে জেলা পরিষদ দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে সোমবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে জেলা পরিষদের সভাপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল সহ ১৪ জন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি যোগদান করেছে যেটা বলা হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ ভুল। জেলা পরিষদের তৃণমূল কংগ্রেসের মেম্বার দীনেশ টুডু ও বন্দনা ঘোষ এর নাম লেখা রয়েছে সেটা সম্পূর্ণ। বর্তমানে তারা মালদায় রয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের মেম্বার দীনেশ টুডু ও বন্দনা ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘আমাদের সই জাল করে দেখানো হচ্ছে আমাদের কে বিজেপি তে যাওয়ার জন্য অর্থের লোভ দেখিয়ে ছিল। কিন্তু আমরা চাইনি আর আজকে এই যোগদান কর্মসূচিতে আমরা উপস্থিতি ছিলাম না অথচ আমাদের নাম বলা হচ্ছে পাশাপাশি সাদা কাগজের প্যাডে আমাদের সই জাল করে দেখানো হচ্ছে।আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মৌসম নুর সাংবাদিকদের জানান দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য ১১ জন সদস্যকে ইতিমধ্যে রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হল। পাশাপাশি বিজেপি মিথ্যা প্রচার করছে জেলা পরিষদ আমাদের দখলে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দিক থেকে আমরাই এগিয়ে।’

এ বিষয়ে জেলা বিজেপির সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল জানান, ‘আমি আগেই বলেছিলাম শুধু সময়ের অপেক্ষা আমরাই জেলা পরিষদ দখল করব।আজকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে জেলা পরিষদের তৃণমূল থেকে বেরিয়ে ১৪ জন বিজেপিতে যোগদান করেছে।এর আগেই দুইজন তৃণমূল ছেলে আমাদের দলে যোগদান করেছিল আর আমাদের পাঁচজন সদস্য আগে থেকেই জেলা পরিষদে ছিল সবমিলিয়ে ২১ জন জেলা পরিষদের সদস্য বিজেপির হলো। স্বাভাবিকভাবেই মালদা জেলা পরিষদ বিজেপির দখলে রইল তৃণমূলের আর থাকলো না।’