টেন্ডারের ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে, ভাংচুর পঞ্চায়েত কার্যালয়ে

32

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ গ্রাম প্রধানের ওপরও হামলার চেষ্টা, টেন্ডারের ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠল মালদা জেলা হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিট। চালানো হলো পঞ্চায়েতে ভাঙচুর। ঘটনার জেরে এলাকায় নামলো বিশাল পুলিশ বাহিনী আটক ৩। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা জুড়ে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার দৌলতপুর পঞ্চায়েতে টেন্ডার ফরম বিলির তারিখ ছিল। এর জন্য ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার বেশ কয়েকজন ঠিকাদার  ফ্রম নেওয়ার জন্য পঞ্চায়েতে হাজির হলে তাদের ফর্ম দিতে অস্বীকার করে বর্তমান প্রধান মোবারক হোসেন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা। এই নিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে পঞ্চায়েতের প্রধান এবং অন্যান্য সদস্যদের বচসা বেঁধে যায়। গন্ডগোলের জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চলে হাতাহাতি মারপিট এমনকি পঞ্চায়েতের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর চালানো হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথি পত্র। ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাসের নেতৃত্বে এলাকায় ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বাকিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এদিনের এই গন্ডগোলের পেছনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রধান মোবারক হোসেন এবং প্রাক্তন প্রধান তোফাজ্জল হোসেনের অনুগামীরাই পঞ্চায়েত অফিসে একে অপরের বিরুদ্ধে চড়াও হয়।

পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, আজ দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে টেন্ডারের ফ্রম বিলির প্রথম দিন ছিল। প্রাক্তন প্রধান তোফাজ্জল হোসেন গোষ্ঠীর লোকজন সোমবার পঞ্চায়েতে টেন্ডারের ফর্ম তুলতে গেলে তাদেরকে বাধা দেয় বর্তমান প্রধান মোবারক গোষ্ঠীর লোকজন। আর এই নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। তারপর ঘটনা মারপিট পর্যন্ত গড়ায় এবং চলে ভাঙচুর।

প্রাক্তন প্রধান তোফাজ্জল হোসেনের বিস্ফোরক দাবি, “বর্তমান প্রধান মোবারক হোসেন তৃণমূল নেতাদের পয়সা দিয়ে আমাকে সরিয়ে প্রধান হয়েছে। এই প্রধান জন-গণের সমস্ত টাকা লুট করছে। নিজেদের গোষ্ঠীর ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্যই এলাকার অন্য ঠিকাদারদের উনি পঞ্চায়েত থেকে ভাগিয়ে দিচ্ছেন। আর সেটার প্রতিবাদ করায় সেই সব ঠিকাদারদের মারধর করা হয়। আমি প্রধান থাকার সময় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতাম। কিন্তু এই প্রধান এলাকার দুর্নীতি-গ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একের পর এক জন-কল্যাণকর প্রকল্প থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি এলাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুলি বন্ধ করে দিচ্ছেন। নিজের লোক ছাড়া কাউকে কোন কাজের টেন্ডার দেবেন না বলে ঠিক করেছেন। তাই এই গন্ডগোল।”

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বর্তমান প্রধান মোবারক হোসেন জানান, প্রাক্তন প্রধান ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। উনার মদদেই আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ আমি পঞ্চায়েত অফিসে বসে ছিলাম। আজ থেকে টেন্ডারের ফ্রম বিলি হওয়ার তারিখ ছিল। আমরা ঠিক করেছিলাম পঞ্চায়েত এলাকার সমস্ত কন্টাকটারকে এক সঙ্গে ফ্রম দেব। কিন্তু প্রাক্তন প্রধান তোফাজ্জল হোসেনের উস্কানিতে এলাকার বেশ কিছু কন্টাকটার এসে পঞ্চায়েতে ঝামেলা বাধায়। আমাকে এবং অন্যান্য মেম্বারকে মারধর করে পঞ্চায়েতে ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ এসে আমাদেরকে বাচায়। আজকের এই সমস্ত ঘটনা প্রাক্তন পঞ্চায়েতের প্রধানের উসকানিতে ঘটেছে। যদিও এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের ব্লক নেতৃত্ব মুখ খুলতে চাননি।

এদিকে এই ঘটনার জেরে সুর ছড়িয়েছে এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব। এলাকার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি কাটমানি খেতে খেতে দলটা এখন দুর্নীতির শেষ পর্যায়ে চলে গিয়েছে। মানুষের জন-কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি থেকেও এখনো শুরু করেছে টাকা রোজগার করতে। তাই এখন নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে। আজ টেন্ডারের ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। এটা নতুন কিছু নয়। এটাই এই দলের সংস্কৃতি।