‘জয় কলঙ্কিত করছে তৃণমূল’, আগামীকাল ধরনার ডাক বিজেপির

916

ওয়েব ডেস্ক, ৪ মেঃ রাজনৈতিক হিংসার মাধ্যমে নিজেদের জয় কলঙ্কিত করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটর ফলপ্রকাশের পর রাজনৈতিক হিংসা বাড়ছে। মহিলা কর্মীদের ধর্ষিতা হতে হচ্ছে। এমনই সব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে টুইট করলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।

যদিও কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের তরফে বীরভূমে দুই বিজেপি মহিলা কর্মীর ধর্ষণের খবরকে ভুয়ো বলে দাবি করা হয়েছে। তবে আর এক টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মালব্য লেখেন, নন্দীগ্রামে মমতার হারের কারণ হল তিনি হিংসাকে প্রশ্রয় দেন। মালব্যের কটাক্ষ, মমতার ক্যাডাররা এক একজন অপরাধী।

ভোটের ফল ঘোষণার পর বাংলা জুড়ে অশান্তির ছবি। চলছে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা। এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দু’দিনের জন্য বঙ্গ সফরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ করে বুধবার থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করছে বিজেপি। এদিন দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নাড্ডা। সেখান থেকে সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীরে বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে অমিত মালব্যের টুইট, বাংলায় নিজেদের জয়কে কলঙ্কিত করছে তৃণমূল।

বিজেপির বক্তব্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে ৯ জন বিজেপির কর্মী। এছাড়া রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসার জন্য কয়েক হাজার মানুষ ঘরছাড়া। সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বীরভূম, হাওড়া, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, মেদিনীপুর, জঙ্গলমহলের জেলাগুলির বিজেপি কর্মীরা৷ প্রায় সব কটি বিধানসভাতেই বিজেপির কর্মীরা আক্রান্ত৷ অনেক কর্মী ঘরছাড়া। তার মধ্যে ৫০০-এর বেশি কর্মী-সমর্থক কলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয় দিল্লিতে। এরপরই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানায়, বাংলার এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশজুড়ে প্রতীকী ধর্না কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আজ দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। রাজনৈতিক হিংসার বলি দলীয় কার্যকর্তাদের বাড়ি যাবেন তিনি।

এই বিষয়ে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৬ জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জেলায় জেলায় রাজনৈতিক হিংসা শুরু হয়েছে। ৫ হাজার বিজেপির সক্রিয় কার্যকর্তারা ঘর ছাড়া। তাই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ৫ মে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ ধর্না কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম৷”