কোচবিহার মাতৃমা থেকে শিশু চুরির অভিযোগে তুলকালাম হাসপাতাল চত্বর

646

কোচবিহার, ১৩ অক্টোবরঃ কোচবিহার সরকারী হাসপাতালে দুই যমজ শিশুর মধ্যে এক শিশু চুরির অভিযোগ উঠল মাতৃমা বিভাগে। রবিবার সাতসকালে এই পরিস্থিতিকে ঘিরে রীতিমতো তুলকালাম বেঁধে যায়। রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার কোচবিহার শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকার এক প্রসূতি সরকারী হাসপাতালে যমজ দুই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর রোগীর আত্মীয়রা ওই সন্তান দুটিকে দেখতে চাইলে তাঁরা ওই সন্তানদের ঠিক মতো দেখাতেও অস্বীকার করে বলে অভিযোগ।

আজ সকালে রোগীর আত্মীয়রা সেই শিশু দুটিকে দেখতে আসলে হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগের কর্তব্যরত সেবিকারা জানান তাদের দুই যমজ সন্তানের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই কথা শুনেই বেজায় ক্ষেপে যান রোগীর আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ মৃত্যু হয়নি ওই শিশুকে চুরি করা হয়েছে। যদিও গুরুতর এই অভিযোগ মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোগীর আত্মীয় রিঙ্কু মাহাতো অভিযোগ করে বলেন, রোগী দুটি সুস্থ যমজ শিশু জন্ম দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা সেই শিশুদের এক দিনেও দেখতে পারিনি, উল্টে সেবিকাদের কাছ থেকে মিলেছে তিরষ্কার। আজকে হঠাৎ হাসপাতালের নার্সরা বলছে আমাদের দুই যমজ বাচ্চার মধ্যে একটি বাচ্চা মারা গেছে। এমন অবস্থায় আমরা মনে করছি, আমাদের বাচ্চা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মারফত চুরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ

এদিকে এই ঘটনায় রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন। ঘটনায় রোগীর আত্মীয়দের তরফ থেকে কোচবিহার কোতোয়ালী থানায় শিশু চুরি করে পাচারের অভিযোগ এনে একটি অভিযোগ পত্র দেবার কথা। তবে সংবাদ লেখা হলেও এখনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কোচবিহার কোতোয়ালী থানা পুলিশ। পরে তাঁরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা প্রসঙ্গে কোচবিহার সরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি রাজীব প্রসাদ বলেন, গতকাল ওই যমজ শিশু দুটি জন্মাবার পর পরিবারকে দেখানো হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে একটি শিশু অসুস্থ থাকায় তাকে এসএনসিইউতে রাখা হয়। আজ সকালে সেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর আত্মীয়রা যে অভিযোগ আনছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রনিত।