নদীর চরের দখলদারিকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, মৃত ১ আহত ৩

92

ফারাক্কা , ৩ নভেম্বরঃ নদীর চরের দখল দারিকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ এবং বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ফরাক্কা। শনিবার সকাল ফরাক্কার নয়নসুখ অঞ্চলে দফায় দফায় শুরু হয় এই সংঘর্ষ। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাদের মধ্যে যাদব ঘোষের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় তাকে স্থানান্তরিত করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতের ওই ব্যক্তির নাম পলাশ ঘোষ (২১)। তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে যাদব ঘোষের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় তাকে স্থানান্তরিত করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ফরাক্কার আইসি জয়দেব ঘোষ। যদিও এই ঘটনায় পুলিস এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহলদারি চলছে।

জানা গেছে, ফরাক্কায় গঙ্গার জলস্তর কমতেই নয়নসুখ গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকায় বিশাল চর সৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গাবক্ষে গজিয়ে ওঠা চরের দখলদারি নিয়ে নয়নসুখ ও ব্রাহ্মণ গ্রামের একাংশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। শনিবার সকালে নয়নসুখ ও ব্রাহ্মণ গ্রামের মাঝে গঙ্গার চরে চাষ করতে যান ব্রাহ্মণ গ্রামের পলাশ ঘোষ, যাদব ঘোষ ও হারাধন ঘোষরা।

অভিযোগ,গঙ্গা পেরিয়ে চরে পৌঁছনো মাত্র তাদের ওপর চড়াও হয় নয়নসুখের প্রহ্লাদ ঘোষ, অসিত ঘোষ, দীপক ঘোষ, সুরজিৎ ঘোষ, মনোজ ঘোষের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী। চলে বোমাবাজি। গুলির লড়াই। জখম হন চারজন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে অর্জুনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে চারজনকে স্থানান্তরিত করা হয় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যু হয় পলাশের। বোমার আঘাতে তার ডান চোখ উড়ে গিয়েছে। হাসুয়া দিয়ে হাত ও দু–পায়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয়েছে। জখম যাদবের অবস্থা সঙ্কটজনক। তার গলার পিছন দিকে হাসুয়ার কোপ মারা হয়েছে। গুলি লেগেছে হাতে। বোমার আঘাতে তার মাথার খুলি উড়ে গিয়েছে। তাকেও স্থানান্তরিত করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনার খবর পেয়ে গঙ্গার চরে ছুটে আসে পুলিস। চর থেকে বেশ কিছু তাজা বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিস। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় পুলিশের টহলদারি চলছে।