মাথাভাঙায় মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর বাড়িতে রাজ্যের ২ প্রাক্তন মন্ত্রী, সাহায্যের আশ্বাস মা-বাবাকে

50

মাথাভাঙা, ১৫ জুলাইঃ গত কালই যানা গিয়েছিল  মাথাভাঙায় খাচায় বন্দি এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর  কথা। আজ সেই ঝিলিক নামের কিশোরীর বাড়ি গিয়ে তার বাবা মায়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন প্রাক্তন দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও  বিনয় কৃষ্ণ বর্মন। বৃহস্পতিবার ঝিলিকদের বাড়িতে যান প্রাক্তন দুই মন্ত্রী।

মাথাভাঙ্গা মহকুমার ঘোকসাডাঙ্গা থানার অন্তর্গত পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বরাইবাড়ি গ্রামে কাঠের বাক্সে দিন কাটত মানসিক ভারসাম্যহীন ১৭ বছরের ঝিলিক বর্মনের। সংসারে অভাব মেটাতে এবং তাকে আসে পাশের লোকেদের থেকে দূরে রাখতে  এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাকে বাক্স বন্দী রাখত তার মা ও বাবা। সংবাদ মাধ্যমে ওই খবর প্রকাশিত হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গতকালই সংবাদ মাধ্যমে ঝিলকদের বাড়িতে যাবেন বলে জানান রবীন্দ্রনাথ বাবু। এদিন ওই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক বিনয় কৃষ্ণ বর্মনকে সাথে নিয়ে ঝিলিকদের বাড়িতে দেখা করতে যান রবীন্দ্রনাথ বাবু। আর্থিক সাহায্য ছাড়াও ঝিলিকের চিকিৎসা, সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সহ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা। প্রাক্তন দুই মন্ত্রীর ওই আশ্বাসে খুশি ঝিলিকের পরিবার।

ঝিলিকের বাড়িতে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, একটা টি ভি চ্যানেলেই প্রথম এই খবরটা জানতে পারেন। সাথে সাথেই কোচবিহারের ডিএম পবন কাদিয়ালের সাথে কথা বলেন এবং রাজ্যের  মন্ত্রী ডঃ শশী পাঁজার সাথেও তার কথা হয়। কোচবিহারের ডিএম সাথে কথা বলার সাথে সাথে তিনি বিডিও এবং অন্যান্য আধিকারিকদের তার বাড়িতে পাঠান। ঝিলিককে একটা খাঁচার মতো কাঠের বাক্সে রাখা হত। কারণ তার বাবা মায়ের কথা আনুযায়ি মানষিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ওকে ছেরে রাখা খুব কঠিন। যখন তখন রাস্তায় চলে যায়, যা তা খেয়ে নেয়, তাই বাধ্য হয়েই তাকে আটকে রাখতে হত।  যদিও এটা খুব আমানবিক ব্যাপার। এই আবস্থায় সরকার ওই পরিবারের পাশে থেকে ঝিলিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য অনেকেই দাবি তোলেন।

রবীন্দ্রনাথ বাবু জানান, বহরমপুরে ঝিলিকের চিকিৎসার ব্যাবস্থা রয়েছে। সেই ব্যাপারেও রাজ্য সরকার তার পাশে থাকবে। রবি বাবু বলেন, মেয়েটির বাবা মায়ের সাথে কথা বললাম, তার বাবা মা রাজি আছেন। এছাড়াও তিন হাজার টাকার একটি মাসিক ভাতা, মানবিক ভাতা খুব শীঘ্রই জেলা শাসক করে দেবেন।  যাতে সংসারটা একটু ভালমতো খেয়ে পরে স্বচ্ছল ভাবে চলতে পারে। এমনি তো রেশন পাচ্ছেই। চেষ্টা করবো খাদ্যসাথি প্রকল্পের আওতায় ওই পরিবার টিকে নিয়ে আসার জন্য।