সিঁদুর খেলে ঘরের উমারা বিদায় দিলেন মাকে, বিষাদের সুর কোচবিহারে

138

মুক্তাঙ্কন বর্মণ,৮ অক্টোবরঃ মা ফিরে গেলেন কৈলাসে। মর্তের উমারা ঘরবন্দি, তাঁরা মন দিলেন দৈনন্দিন জীবনে। পথ ঘাট শুনশান, দোকানপাটও বন্ধ। সব মিলিয়ে আলো ঝলমলে রঙ্গিন তিনটি দিনটি যেন খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে নবমীর রাতটাও এবছর ফিকে হয়ে গেছে দর্শনার্থীদের কাছে। কখনও প্রবল কখনও হালকা বৃষ্টি বেঘাত ঘটিয়েছে দর্শনার্থীদের। নিয়ম মেনে কোচবিহারের যমুনা দিঘীতে বিসর্জন হয়ে গেছে রাজ ঐতিহ্যের বড়দেবীর । সবত্র যেন ভেসে আসছে বিবাদের সুর, এরই মাঝে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেছে কূলবধূরা। আসলে বিসর্জনের ঢাকের আওয়াজের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে আগামীর বোধনের আহ্বান। তাই তো বারে বারে আওয়াজ উঠে ‘আবার কবে, বছর পরে’। এদিন কোচবিহার শহরে বিভিন্ন পূজা কমিটি গুলি প্রতিমা পরিক্রমা করে কোচবিহার তোর্ষার ঘাট, ডাঙরাই,রাজমাতা দিঘী সহ বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করে।

দশমী উপলক্ষে মিলন মেলার আয়োজন হয়েছে অসম বাংলা সীমান্তের তুফানগঞ্জ মহকুমার বক্সিরহাটে। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে মিলন মেলা প্রাঙ্গণের অবস্থা বেহাল, তবুও সকাল থেকেই এই মেলাকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। শুরু হয়ে গেছে মহিলাদের সিঁদুর খেলাও। অসম ও বাংলার মানুষের এই মিলন মেলাকে ঘিরে স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন ছিল চোখে পরার মতো।

মাথাভাঙ্গাতেও ছিল এদিন দশমীকে ঘিরে এক অন্য পরিবেশ। দশমী উপলক্ষে সুটাঙ্গা নদীতে হয় নৌকাবিহার। এই নৌকা ভ্রমণের অংশ নেন মাথাভাঙার মহকুমাশাসক জিতেন যাদব, রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু মন্ডল, হাসপাতাল মহকুমা হাসপাতালের সুপার দেবদ্বীপ ঘোষ  সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

দিনহাটাতেও প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে ছিল অন্যমাত্রা। দিনহাটা পৌরসভার উদ্যোগে এদিন কার্নিভালের আয়োজন হয়। এরপর রথবাড়ি ঘাটে চলে বিসর্জনের পালা।

মেখলিগঞ্জেও প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায় পূজা উদ্যোগতাদের মধ্যে, এখানে তিস্তার ঘাট সহ বিভিন্ন জলাশয়ে হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। গোটা জেলা জুড়ে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা, কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৈরি ছিল কোচবিহার জেলার পুলিশ।