মিজোরাম সফরে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ভয় দূর করার চেষ্টা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

360

ওয়েব ডেস্ক, ৬ অক্টোবরঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার পরে অমিত শাহ গতকাল গিয়েছিলেন মিজোরামে সেইখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী সাথে বৈঠকে মিজোরামের ইনার লাইন পারমিট রক্ষার্থে জোর দিয়েছেন। সেইখানকার ছাত্র সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় মানুষদের ভয়,নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল হলে রাজ্যটি ভোরে যাবে প্রবাসীতে। তখন তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এটি যেন না ঘটে সেই জন্য ইনার লাইন পারমিট নিয়ে একটি আলাদা ধারা রাখা হবে ড্রাফট বিলে।

প্রসঙ্গত,মিজোরাম সফরে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ভয় দূর করার চেষ্টা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার তিনি প্রথমবার উত্তর পূর্ব রাজ্য সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের ড্রাফ্টে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া থাকবে। যাতে বহিরাগতরা রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যাপারটিও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে মিজোরামের ইনার লাইন পারমিট রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন অমিত শাহ। সেখানকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের ভয়, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে রাজ্য প্রবাসীদের দ্বারা ভর্তি হয়ে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, সেখানে মিজোরামের ইনার লাইন পারমিট নিয়ে আলাদা একটি ধারা রাখা হবে। ড্রাফট বিলেই সেসটি রাখা থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন অমিত শাহ। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রধান জোরামথাঙ্গা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ভাল বলেও বর্ণনা করেছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার অমিত শাহের সঙ্গে মিজোরাম সফরে গিয়েছিলেন, উত্তর পূর্বের উন্নয়ন মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান হিমমন্ত বিশ্বশর্মা। হিমন্ত বিশ্বশর্মার উদ্যোগেই মিজোরামের বিভিন্ন সামাজিত সংগঠন বিক্ষোভ দেখানোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের কথা তুলে ধরেন।

এর আগে নাগরিকত্ব সংশাধনী বিল নিয়ে মিজোরামে ব্যাপক বিক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছে। কেননা ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বরের আগে রাজ্যে আসা অমুসলিমদের রাজ্যে থাকতে দেওয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে সেখানকার ভূমিপুত্রদের। মিজোরামে চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের। অভিযোগ এঁরা সবাই বাংলাদেশ থেকে আগত। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রায় ১ লক্ষ মানুষকে রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হলে, তাঁদের পরিচয় এবং জীবিকার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হবে বলেই দাবি ভূমিপুত্রদের।