প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বিহার ও উত্তরপ্রদেশ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪

29

ওয়েব ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ লাগাতার বৃষ্টির জেরে কার্যত ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে বিহার, উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। যার যেরে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য জেলা কালেক্টরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা জানিয়েছেন, তাদের তরফ থেকে যথাসাধ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সকল বন্যা বিধ্বস্ত মানুষদের ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্যায় আটকে থাকা লোকজনদের উদ্ধার কার জন্য বায়ুসেনার কাছে আবেদন করেছে বিহার সরকার। রাজ্যে কাজ করছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। পাটনায় বন্ধ স্কুল-কলেজ। কোশী, গন্ডক, বাগমতি নদীর জল কমার কোনও লক্ষণই আপাতত নেই।

প্রবল বর্ষণে ব্যাহত রেল পরিষেবা।পাটনা স্টেশনে আটকে রয়েছেন বহু যাত্রী। বন্যার কারণে ২৫টি ট্রেনকে হয় অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু ট্রেন। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের বন্যা পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গাপুর, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৈঠক শেষে দুর্গতদের উদ্ধারে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করার কথাও ঘোষণা করেন যোগী । এখনও পর্যন্ত পূর্ব উত্তরপ্রদেশে খোলা হয়েছে ৩৮টি ত্রাণ শিবির। প্রবল বৃষ্টির কারণে শতাধিক মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বেশ কিছু গবাদি পশু ভেসে গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল। রাস্তায় কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে। প্রয়াগরাজ, বারাণসী, মির্জাপুরের মতো একাধিক এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, চার মাসের মৌসুমী বৃষ্টির মাস সোমবার শেষ হলেও, মৌসুমী বায়ু এখনও সক্রিয় রয়েছে রাজস্থান, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের উপর।