কোচবিহারে ক্রীড়া ক্ষেত্রে নয়া সমীকরণ,স্টেডিয়ামে ফিরলেন বিষ্ণুব্রত

916

কোচবিহার ১৮ অক্টোবরঃ মাঠের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ কোচবিহারে। ফের কোচবিহার জেলা ক্রীড়ার সংস্থার সম্পাদক হিসাবে বিষ্ণুব্রত বর্মণকে মান্যতা দিল কোচবিহার পৌরসভা পৌর প্রধান তথা রাজ্য সরকারের ক্রীড়া দপ্তরের কমিটি ফর ম্যানেজমেণ্ট অফ স্পোর্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোচবিহারের চেয়ারমেন ভূষণ সিং। আগামী ১ লা নভেম্বর থেকে রাজবাড়ি সংলগ্ন কোচবিহার স্টেডিয়াম ব্যবহার ও মাঠটি পরিচালনা করার দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন ভূষণ বাবু। শুক্রবার এই স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, জেলার এক প্রভাবশালী নেতার প্ররোচনায় পা দিয়ে বিষ্ণুবাবুকে বঞ্চিত করে ছিলেন তিনি। এটা তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলেও এদিন স্বীকার করেন ভূষণ বাবু ।

কোচবিহার জেলার ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কে? এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তর্জা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আইন আদালত হয়ে থাকলেও এই সংস্থার সম্পাদক হিসাবে দুইজন দাবী করে থাকেন। এদের মধ্যে একজন বিষ্ণুব্রত বর্মণ ও অপরজন সুব্রত দত্ত। এদিন সুব্রত বাবু বলেন,গত ১৮ আগস্ট জেলা শাসকের অনুমতি নিয়ে সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে ২০২২ সন পর্যন্ত ৪৫ জনের একটি কমিটি গঠন হয় । সেই কমিটি তাকে সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে দাবী করেন সুব্রত বাবু।তিনি বলেন,  ওই সভা থেকে যে কমিটি গঠন হয়েছে তা গণতান্ত্রিক ভাবে হয়েছে বলে দাবী তার।

অন্যদিকে বিষ্ণু বাবুর দাবী তিনি এই সংস্থার প্রকৃত সম্পাদক। অন্য যে কমিটি রয়েছে তাঁরা অবৈধ। রাজ্য ক্রীড়া সংস্থা তাদেরকেই মান্যতা দেয় বলে দাবী করেন বিষ্ণু বাবু। তিনি বলেন সিএবি সহ রাজ্য ভিত্তিক যে ক্রীড়া সংস্থা গুলি রয়েছে তাঁরা তাদের কমিটিকেই বৈধতা দেয়। আইন ও নিয়ম মেনে তিনি নিজেকে সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন বলেও দাবী তার।

রাজ্য সরকারের ক্রীড়া  ক্ষেত্রের  দায়িত্ব পাবার পরেই ভূষণ বাবু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেই সময় মাঠ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিষ্ণু বাবুকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে কোচবিহার স্টেডিয়ামে ডিএস-এর কর্ম কর্তাদের ব্যবহারের জন্য যে কার্যালয়টি ছিল তা তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। এর ফলে কার্যত মাঠ ও কার্যালয় ব্যবহার সহ অন্যন্য অধিকার হারান বিষ্ণু বাবু। বাস্তুচুত্য হয়ে এক প্রকার ক্রীড়া জগতে প্রায় ব্রাত্য হয়ে গিয়েছলেন বিষ্ণু বাবুরা। ২০১৭ সনে ৩ ডিসেম্বর ভূষণ বাবু এই তালা ঝুলিয়ে ছিলেন । এর ফলে স্টেডিয়াম চত্বরে ডিএস-এর কর্ম কর্তাদের প্রবেশ প্রায় বন্ধ  হয়ে যায়। এরপর  জল গড়ায় অনেক দুর। জেলা ক্রীড়ার সংস্থার সম্পাদক কে চ্যালেঞ্জ করে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয় সেই সময়, যার দায়িত্ব দেওয়া হয় সুব্রত বাবুকে । এরপরে বিষ্ণু বাবুরা আইনি পথে লড়াই শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে মামলাও চলতে থাকে।

কিন্তু এই সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যপক পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তন ঘটে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও । গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার সহ গোটা উত্তরবঙ্গে ভরা ডুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। এরপরেই শাসক দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়। কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরে যেতে হয় উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। এই কেন্দ্রের ঘাস ফুল শিবিরের পরাজয়ের পর কার্যত দল পরিচালনার দায়িত্ব আসে রবি বিরোধী শিবিরের হাতে। কোচবিহারে মাঠ বিতর্ক অথবা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নিয়ে যে টানা পোড়ন তা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করে ক্রীড়া প্রেমীরা। জেলা তৃণমূল রাজনীতিতে  রবি শিবিরের  ক্ষমতায়ন খর্ব হতেই জেলার ক্রীড়া সংস্থায় এল পরিবর্তন । ইতি মধ্যেও জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নতুন সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিষ্ণুব্রত বর্মণ। তৃণমূল কংগ্রেসের সৃষ্টি লগ্নে দলের প্রথম চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সংসদ প্রসেনজিৎ বর্মণের পুত্র বিষ্ণু বাবু। জেলা তৃণমূলে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রবি বিরোধী শিবিরে অবস্থান এদের।

এদিন নাম না করেও জেলার প্রভাব শালী এক নেতার কথা বলেছেন ভূষণ বাবু। আসলে তিনি ঠারেঠোরে  রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কথা বলতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘বিষ্ণুকে মাঠের বাইরে বের করে দেওয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। জেলার এক মন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজ করতে বাধ্য হয়ে ছিলাম’। অকপটে  নিজের দোষ স্বীকার করে ভূষণ বাবু আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মন্ত্রীর কথা শুনলে মাঠে উন্নয়নের কাজ হবে, কিন্তু তা বাস্তবে হয়নি’। দলীয় নির্দেশেই বিষ্ণু বাবুকে যে ফের দায়িত্ব দেওয়া হল তাও এদিন সাংবাদিকদের কাছে বলে ফেলেন ভূষণ বাবু। এদিনের ভূষণ বাবুর  ভূমিকায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন বিষ্ণুব্রত বর্মণ।