এনআরসিতে বাদ পরা ‘ভোটার’রা ভোট দিতে পারবেন: নির্বাচন কমিশন

30

ওয়েব ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বরঃ ভোটার তালিকায় নথিভূক্ত যাদের নাম চূড়ান্ত এনআরসির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের এখনই ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার বলে চিহ্নিত করা হবে না। এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক।  যতদিন না তাদের ‘বিদেশি’ হিসেবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আদালত, ততদিন তারা ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের এক কর্মী জানিয়েছেন, যেসব নিবন্ধভুক্ত ভোটার নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে ধরা যাবে না, যতদিন না তারা ‘বিদেশি’ বলে প্রমাণিত হচ্ছেন।

‘সন্দেহভাজন’ বা ‘ডি ভোটার’ হলেন তারাই, যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। ১৯৯৭ সালে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় এই ক্যাটিগরি চালু করে নির্বাচন কমিশন। এনআরসির পরিমার্জন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে সুপ্রিম কোর্ট।

অসমে প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ১৯ লাখের নাম। বাদ পড়াদের অনেকেরই রয়েছে বৈধ ভোটার কার্ড। যদিও, তাদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভূক্ত রয়েছে। কিন্তু, এনআরসি তালিকায় নাম থাকায় তাদের ‘সন্দেহভাজন’ বা ‘ডি’ ভোটার বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। তাদের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিৎ।

নাগরিক পঞ্জির পরিমার্জন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ১.২ লক্ষ ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না তাঁদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপরই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এই ‘সন্দেহজনক ভোটার’-রা কি ভোট দিতে পারবেন না? বিশেষ করে যাঁরা এতদিন ভোট দিয়ে আসছিলেন? এবার এই বিষয়ি নিয়ে মুখ খুলেছে নির্বাচন কমিশন।

প্রসঙ্গত, ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বহু বৈধ নাগরিককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় ৩.১১ কোটি মানুষ জায়গা পেয়েছেন। বাদ গিয়েছে ১৯ লাখ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় নাম না থাকলেই তাঁরা এখনই ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত হবেন না। আদালতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে তাঁদের। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের মধ্যরাত পর্যন্ত যাঁরা বাংলাদেশ থেকে অসমে এসেছেন তাঁদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে।