সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে প্রতীক্ষালয়, সংস্কার না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি স্থানীয় বাসিন্দারা

29

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ প্রায় দু’দশক আগে তৈরি হয়েছিল যাত্রী প্রতীক্ষালয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে এই প্রতীক্ষালয়। এর ফলে যাত্রীদের সহ করতে হচ্ছে রোদ-বৃষ্টি ঝড়। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনকে বহুবার জানালেও সংস্কার হয়নি প্রতীক্ষালয়টি। অবিলম্বে প্রতীক্ষালয় সংস্কার না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি।

জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে রতুয়া-১ ব্লকের চাচোল রতুয়া রাজ্য সড়কের ধারে জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দে তৈরি হয়েছিল ভাদো গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তারানগর যাত্রী প্রতীক্ষালয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতীক্ষালয়টি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতীক্ষালয়ের বসার আসন ভেঙে পড়েছে, ছাদ ও দেওয়াল থেকে খসে পড়ছে সিমেন্ট বালি। বেহাল প্রতীক্ষালয়ের ভেতরে চুয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। যেকোনো মুহূর্তে ছাদ ভেঙে বিপত্তি ঘটতে পারে এমনটাই আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওবাইদুল্লা, শাহেদুর রহমানদের অভিযোগ, প্রায় দু’দশক আগে এই প্রতীক্ষালয়টি এখানকার যাত্রী সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছিল। কয়েক বছর বেশ ভালই ছিল, তারপর রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

আমরা বহুবার গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে জানিয়েছি কিন্তু সংস্কারের জন্য কেউ উদ্যোগ নেয়নি। এই প্রতীক্ষালয়ে বাস ধরতে প্রতিনিয়ত আট থেকে দশটি গ্রামের কয়েকশো যাত্রী আসেন। যেমন তারানগর, হাড়িপাড়া, চন্ডিপুর, কয়লা পাথার, হলদিবাড়ি, বলদিয়া ও চাঁদমনি। এখানে বাস ধরতে আসেন বহু মানুষ এই রাস্তা হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।

 কিন্তু প্রতীক্ষালয়ের ভেতরে বসার কোন সুব্যবস্থা নেয় এমনকি দাঁড়িয়ে থাকাও যায়না। বাস ধরতে হলে প্রতীক্ষালয় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, কারণ যেকোনো মুহূর্তে প্রতীক্ষালয়টির ছাদ ভেঙে পড়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয় বর্ষার সময়। এখানে এসে বাস ধরতে গেলে আশ্রয় নিতে হয় গাছের নিচে অথবা পাশের দোকান ঘর গুলিতে।

নেই কোন আলোর ব্যবস্থা সন্ধ্যে নামতে নেমে আসে অন্ধকার। প্রতীক্ষালয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন এই যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, এর ফলে ভেতরে বসা যায় না, দাঁড়িয়ে থাকতে হয় গাছের তলায় অথবা আশে পাশের দোকান ঘরে। বর্ষার দিনে ভোগান্তির শেষ নেই। প্রতীক্ষালয় থাকা না থাকা সমান। প্রশাসনকে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

এই বিষয়ে মালদা জেলা পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবির (বাজনা) কে ধরা হলে তিনি জানান বিষয়টি আমার জানা আছে, প্রতীক্ষালয়টি দীর্ঘ দিনের পুরনো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে। ছাদ ও দেওয়াল থেকে সিমেন্ট বালি খসে পড়েছে,তবে খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করে দেওয়া হবে। আমরা জেলা পরিষদ থেকে অর্থ বরাদ্দ করে খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করেদেবো। পাশাপাশি সেখানে পথবাতীরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।