নাটাবাড়ি আমার পরিবার, আর পরিবার থেকে বিচ্ছেদ নয়ঃ পরাজয়ের পরেও বার্তা রবির

678

“নাটাবাড়ি আমার পরিবার। আমার জীবনের অংশ। পরিবারের রায় নত মস্তকে গ্রহন করলাম। যাবতীয় ভুল ভ্রান্তির পর্যালাচনা করব। পরিবারের সাথে কখনও বিচ্ছেদ হয়না।”

সুমিতেশ ঘোষ, কোচবিহারঃ  তিনি  পরাজিত হয়েছে ব্যাপক ভোটের ব্যবাধানে। তারপরেও নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষদের নিজের পরিবার বলেই ভাবছেন। আর পরিবার থেকে বিচ্ছেদ হওয়া যায় না, সেকথা উল্লেখ করেছেন নিজেই। তিনি বলতে কোচবিহারের নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আজ তিনি নিজেই তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “নাটাবাড়ি আমার পরিবার। আমার জীবনের অংশ। পরিবারের রায় নত মস্তকে গ্রহন করলাম। যাবতীয় ভুল ভ্রান্তির পর্যালাচনা করব। পরিবারের সাথে কখনও বিচ্ছেদ হয়না।“ ইতিমধ্যেই স্যোসাল মিডিয়ায় প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দেওয়া ওই পোস্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে আসছেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। বাম আমলে প্রয়াত সিপিআইএম নেতা শিবেন চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছেন একবার, দুবার পরাজিত হয়েছেন সিপিআইএম নেতা তমসের আলীর কাছে। আবার ২০১১ সাল থেকে টানা দুবার সেই সিপিআইএম প্রার্থী তমসের আলীকে পরাজিত করে বিধায়ক, এরপর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন।

,মূলত নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ডাউয়াগুড়ি এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বাবু। বর্তমানে কোচবিহার শহরের নতুন পল্লি এলাকায় বসবাস করলেও এখনও ডাউয়াগুড়ি এলাকার ভোটার হয়েই রয়েছেন তিনি। বাম আমলেও বারবার পরাজিত হওয়ার পরেও বন্যা, নদী ভাঙন সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে নাটাবাড়ি এলাকার বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।  বিধায়ক হওয়ার পরে নিজের এলাকার উন্নয়নের কাজেও এলাকার বাসিন্দাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। নিজের এলাকায় বিশ্ব বিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গড়েছেন, বেশ কিছু স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন করেছেন, রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বন্যা ঠেকাতে বাধ নির্মাণ সহ বহু উন্নয়ন মূলক কাজ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

শুধু তাই নয়, গত বছর করোনা কালে টানা লকডাউনে মানুষ যখন চরম বিপদে তখন নিজের বিধানসভা এলাকার প্রায় প্রত্যেক বিপদগ্রস্ত অসহায় বাসিন্দার দাওয়ায় গিয়ে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এসেছেন। বাজার, ব্যাংক, সহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষ যাতে সংক্রমিত না হয়ে পড়ে, তার জন্য মাস্ক বিতরণ, জটলা না পাকানো সহ নানান ক্ষেত্রে পথে নেমে কাজ করতে দেখা গিয়েছে।

এবার নির্বাচনে তাই উন্নয়নকেই হাতিয়ার করেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন এই এলাকার মানুষের পাশে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রয়েছেন, ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, কাজেই মানুষ তাকেই জিতিয়ে আনবে। তাই বারবার তাঁকে উন্নয়নের প্রচার করতে শোনা গিয়েছে। কিন্তু মেরুকরণ, দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল যে অনেকটাই গভীরে আঘাত করেছে, সেটাও আন্দাজ করতে পেরেছিলেন তিনি। এসবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক রণকৌশল তৈরি করে লড়াইও চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয় আটকাতে পারেন নি।

এবারের নির্বাচনে তাঁর এই পরাজয়ের পর অনেক দলীয় কর্মী অনুগামী স্যোসাল মিডিয়ায় নাটাবাড়ির মানুষের উপড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছিলেন। কাজের লোককে হারিয়ে দিয়ে নাটাবাড়ির মানুষ এবার কার কাছে যায়, সেটা দেখবেন বলে একরকম হুশিয়ারি দেওয়া শুরু করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বাবু সেপথে হাঁটলেন না। ফল ঘোষণার দুদিন পরেই স্যোসাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দিলেন নাটাবাড়ি তাঁর পরিবার। আর পরিবার থেকে বিচ্ছেদ হওয়া যায় না।