১লা ফেব্রুয়ারি ফাঁসির আগে নির্ভয়াকাণ্ডের ৪ দোষীর শেষ ইচ্ছে কি!

2175

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারিঃ  পয়লা ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় ফাঁসির দিন ধার্য করেছে আদালত৷ নির্ভয়াকাণ্ডে চার দোষীকে তাদের শেষ ইচ্ছের কথা জানাতে বলা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তারা বিশেষ কারও সঙ্গে দেখা করতে চান কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছে৷

জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের জানতে চাওয়া হয়েছে তাঁরা ধর্মগ্রন্থ পড়তে কিংবা কোনও ধর্মগুরুর সঙ্গে দেখা করতে চান কিনা।

শুক্রবারই নির্ভয়া কাণ্ডে ৪ দোষীকে পয়লা ফেব্রুয়ারি ফাঁসি দেওয়া হবে বলে নির্দেশ দেয় আদালত৷ ফের রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল নির্ভয়া গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে ৪ দোষীর মধ্যে পবন গুপ্তা৷ শীর্ষ আদালতে আবেদনে সে জানিয়েছে, নির্ভয়া গণধর্ষণ ও খুনের সময় সে নাবালক ছিল৷ পবন গুপ্তা তার আবেদনে লিখেছে, ‘অপরাধের সময় আমি একজন নির্দোষ নাবালক ছিলাম৷ তাই আমায় জুভেনাইল আইনে সাজা দেওয়া হোক৷’ অর্থাত্‍ কম সময়ের হাজতবাস৷ তার আরও দাবি, ওই সময় তার বয়স পরীক্ষা করা হয়নি৷

বিনয় শর্মা, মুকেশ সিং, অক্ষয় কুমার সিং ও পবন গুপ্তাকে প্রথমে ২২ জানুয়ারি তিহার জেলে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট৷ এরপর মুকেশ সিং প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়ে কিউরেটিভ পিটিশ দাখিল করে সুপ্রিম কোর্টে৷ কিন্তু শীর্ষ আদালতে তা খারিজ হয়ে যায়৷ ফের সে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়৷ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও তার প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেন৷ ফের জারি হয় মৃত্যু পরোয়ানা৷ ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় ৪ জনের ফাঁসি তিহার জেলে৷

এই ফাঁসির দায়িত্বে রয়েছেন পবন কুমার। সেই পবন কুমার বললেন, নির্ভয়া দোষীরা পশু, তারা মানুষ নয়। তাই তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই তাঁর।

উত্তরপ্রদেশের মিরাটের বাসিন্দা এই পবন কুমার। শুক্রবার জানান, “যারা ফাঁসিতে ঝুলতে যাচ্ছে, তারা সবাই পশু, মানুষ নয়। তারা নৃশংস। তাই তাদের ফাঁসির সাজা হয়েছে।” বংশপরম্পরায় তিন পুরুষ ধরে ফাঁসুড়ের কাজ করছেন পবন কুমার। তাঁর জন্য আলাদা করে দেহরক্ষীর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। এই প্রথমবার কোনও ফাঁসির দায়িত্ব পেয়েছেন পবন। তাঁর ঠাকুর্দা প্রথম এই ফাঁসুড়ের কাজ শুরু করেন। তাঁকে ‘গুরু’ বলে ডাকা হত। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারীদের ফাঁসি দিয়েছিলেন তিনি। ফাঁসুড়ে হওয়ার গুরুদায়িত্ব থাকার পরেও মাত্র ৫০০০ টাকা স্টাইপেন্ড পান পবন কুমার, এমনটাই অভিযোগ তাঁর। এই টাকায় তাঁর সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে অন্য কাজ করতে হয় পবনকে। পবনের কথায়, “অপরাধ তখনই কমবে, যখন অপরাধীদের ফাঁসি দেওয়া হবে। তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে তারা জেল থকে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধ করবে। তাই এই ধরনের লোকদের ফাঁসি দেওয়া উচিত।”