নির্ভয়া কাণ্ডের চার অভিযুক্তের ফাঁসি কবে? হাইকোর্টে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

390

ওয়েব ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ নির্ভয়া কাণ্ডের অভিযুক্তদের যদি ১ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শনিবার ফাঁসি হওয়ার কথা থাকলেও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তা স্থগিত হয়েছে। রবিবার দিল্লি আদালতে সেই আবেদনের বিশেষ শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। নির্ভয়া কাণ্ডের অপরাধী বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এর আগে মুকেশ সিংয়ের প্রাণভিক্ষার আর্জিও প্রত্যাখ্যান করেছেন রাষ্ট্রপতি। এর মাঝেই দিল্লি হাইকোর্ট শনিবারই তিহার জেল কর্তৃপক্ষ ও সাজাপ্রাপ্তদের এ বিষয়ে নোটিস জারি করেছে।

জানা গেছে, রবিবার দুপুরে দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলার জন্য বিশেষ শুনানি করবে বলে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহলা সরকারের হয়ে এই আবেদন করেছিলেন। তিনি বিচারপতিদের জানিয়েছেন, এভাবে ফাঁসির দিন পিছিয়ে দিয়ে দোষীরা দেশের মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা সবচেয়ে নোংরা এবং লজ্জার। রবিবার অন্তত দুই দোষীকে ফাঁসির সাজা শোনাতে পারে হাইকোর্ট। দিল্লি কোর্টে নির্দেশে দোষীদের ফাঁসি স্থগিত হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, ‘আসামিদের উকিল এপি সিং বলেছেন, এই ফাঁসি কখনই হবে না।’

তিহার জেল প্রশাসন জানিয়েছে, বিনয়ের আবেদন রাষ্ট্রপতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু পতিয়ালা হাউস কোর্টের অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে গিয়েছে তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির জন্য আবেদন জানিয়েছিল তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মামলার শুনানি হবে রবিবার। শুক্রবার নির্ভয়া কাণ্ডের যে চারজনের ফাঁসি স্থগিত করা হয় তারা হল মুকেশ সিং, অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা এবং পবন গুপ্তা। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাদের ফাঁসি হবে না।

দিল্লি আদালতের মুখ্য বিচারপতি ডিএন প্যাটেলের সামনে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, যে এই মামলায় সাজাপ্রাপ্তরা আইনি পদ্ধতিকে জয়রাইড করে ঘুরছে। মৃত্যুদণ্ড দেরিতে করার জন্য নানা টালবাহানা করছে তারা। শনিবার ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ছ’‌টার সময় এই চারজনের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিল্লি আদালতের পক্ষ থেকে ফাঁসির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। আসামিদের আইনজীবী এপি সিং জানান যে তাদের আইনী প্রতিকারগুলি এখনও শেষ হয়ে যায়নি, ফাঁসির তারিখটি অনিশ্চিত রয়েছে।

অন্যদিকে, আবেদনে দোষী অক্ষয় জানিয়েছিলেন, জনসাধারণের চাপ এবং জনমতের কারণে আদালত সকল সমস্যার সমাধান হিসাবে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে। অক্ষয়ের দাবি, ধর্ষণ ও হত্যার প্রায় ১৭ টি মামলায় শীর্ষ আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় বদলেছে।