ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় ১৪ টি শাক!

265

বিশেষ প্রতিবেদন, ২৬ অক্টোবরঃ  কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে হয় কালীপূজা। এর ঠিক আগের রাত অর্থাৎ আজ হল ভূত চতুর্দশী।

ভূত মানে অতীত। আবার ভূত মানে প্রেতাত্মা। ভূত চতুর্দশীর রাতে শিবভক্ত বলি মর্ত্যে আসেন পূজা নিতে। সঙ্গে আসেন তাঁর অনুচর ভূতরা। এর ঠিক পরের দিন, চন্দ্রের তিথিনিয়ম মেনে, হয় কালীপূজা। সেও আলোর উৎসব, আতসবাজির জলসা। কালীপূজা ও দীপাবলি উৎসবের গূঢ় দিক হল কালিকার আরাধনা। কৃষিপ্রধান বাংলায় তিনি আদ্যাশক্তি, তিনিই দশমহাবিদ্যা। মুণ্ডমালা তন্ত্র অনুযায়ী, আদ্যাশক্তি হলেন কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধুমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী ও কমলাকামিনী। কৃষিপ্রধান তন্ত্রে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। তিনি শক্তি, তাঁর নাম প্রকৃতি। তিনিই মহৎ জ্ঞান বা বিদ্যা।

বাঙালি এই দিন চৌদ্দ শাক খেয়ে চৌদ্দপুরুষকে স্মরণ করেন। সন্ধ্যায় জ্বালতে হয় চৌদ্দ প্রদীপ। রাতে বিদেহী আত্মারা নেমে আসেন মর্ত্যলোকে। পশ্চিমের ‘হ্যালোউইন’ প্রথার সঙ্গে অনেকাংশেই মেলে এই আচার।

চতুর্দশী তিথির ভরা অমাবস্যায় চারিদিক নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। সেই ঘন অন্ধকারের আমেজে বাড়ির চারপাশে প্রদীপ জ্বাললে অশুভ শক্তি থেকে দূরে থাকা যায়। অনেক জায়গায় ‘হ্যালোউইনে’ও বাড়ির চারপাশে টাঙানো হয় বিচিত্র সব লন্ঠন, অধিকাংশই কুমড়ো কেটে তৈরি।

নানাবিধ রোগ হরণকারী এই ১৪টি শাক হল ওল, কেঁউ, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা এবং শুষনী।